Categories
Uncategorized

Test

আমার মাকে সবসময় দেখেছি যখনই আমি আর আমার বর একসাথে একরুমে থাকি, হয়তো বসে গল্প করছি, কথা বলছি, বা দু’জন দুজনের কাজই করছি নিজের মত-
তখন যে রুমে আমরা আছি সেই রুমের দরজা যদি ঘটনাক্রমে খোলা থাকে তবে সেটা চোখে পড়লেই তিনি এসে দরজা আস্তে করে ভিড়িয়ে দেন।

যখনই কোন প্রয়োজন পড়ে উনি প্রথমে দরজা নক করেন।
আর কাজের কথা শেষ হলে যাওয়ার আগে নিজ দায়িত্বে দরজা ভিড়িয়ে দিয়ে যান।

স্বামী স্ত্রী একসাথে কোন ঘরে থাকলে হুটহাট সেখানে ঢুকে পড়াটা উনার নজরে খুবই অশোভনীয়। অাব্বাতো অামার ঘরের ধারে কাছেও অাসেন না।ডেকে ডেকে অানতে হয়।উনি নিজেও কখনও করেন না, আর অন্যরা কেউ করতে গেলে সেটাও অপছন্দ করেন, এবং করতে মানা করেন।

অামার মা খুব বড় পি.এইচ.ডি ধারী নন, কিন্তু উনার মধ্যে আমার এই ক্ষুদ্র বিবাহিত জীবনে, অনেক বড় বড় শিক্ষিত শ্বাশুড়ি’র চেয়ে অনেক বেশি ম্যানার আর জ্ঞান দেখেছি।অবশ্য অামার ছোট্ট ননদটার মধ্যেও এই বোধটা প্রকট।

কিন্তু প্রায় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অন্যান্যরা যেমন তেমন, অামাদের শ্বাশুড়ি সমাজের যন্ত্রণায় স্বামী-স্ত্রী’র প্রাইভেসি নষ্ট হবার ঘটনা ঘরে ঘরে ডেইলি সোপের মতই কমন।
নিজেদের প্রয়োজনেও রুমের দরজা লাগালে, বা একটু আড়াল হলে শ্বাশুড়িদের মন আনচান করা শুরু করে।

এর পিছনে আসলে প্রকৃত কারণ কি, বা তাদের মনে কি চলে আমি কখনওই বুঝে উঠতে পারিনা। রুমে দরজা লাগিয়ে বড়জোর এমন কি ঘটতে পারে যেটা স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে ঘটা টা অপরাধ বা অশোভনীয় সেটাও এখনও পর্যন্ত ফিগার আউট করতে পারিনি!! 🥴

স্বামী-স্ত্রী’র প্রাইভেসি কোন বিলাসিতা না।
এটা নেসেসিটি।
এবং ভদ্রতাবশত আর স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবেই এটাকে মেনে নিয়ে সুখে শান্তিতে শ্বাশুড়িমহল বেঁচে থাকতে কেন পারেন না, সেটা জানার আমার অপরিসীম আগ্রহ।

একবার তাদের কাছে ভদ্রভাষায় নম্রভাবে জিজ্ঞাসা করে দেখুন,

“আম্মা, আমরা দু’জন দরজা লাগালে আপনার কি কোন সমস্যা হয়? কি সমস্যা হয় একটু খুলে বলুন? সেটা নিয়ে আলোচনা করে দেখি কোন সমাধান বের করা যায় কিনা।
কারণ আমরা তো হাজব্যান্ড-ওয়াইফ।
দিনে হোক রাতে হোক, সকালে হোক বিকালে হোক, আমাদের নিজস্ব প্রাইভেসির প্রয়োজনে আমরা যেকোন সময়ে দরজা লাগাতেই পারি।
তো অল্টারনেটিভ কি উপায়ে আপনার মানসিক শান্তির ব্যবস্থা করা যায় সেটাই বলেন। চেষ্টা করে দেখি, ব্যবস্থা করা যায় কি না!!”

Categories
Uncategorized

শ্রাবস্তির স্বপ্নভঙ্গ

আহমেদ কবির সাহেবের সাত ছেলে মেয়ের সর্ব কনিষ্ট মেয়ে নেহা কবির ।সব ছেলে মেয়েরাই বড় হয়ে গেছে ,বিয়ে করে সংসার জীবনে প্রবেশ করেছে । বিয়ে হতে বাকি রয়েছে নেহা কবির এবং এক ছেলে নেহাল কবির ।দু ভাই বোন এখনো পড়াশোনা করছে।নেহা পন্চম শ্রেনী এবং নেহাল সপ্তম শ্রেনীতে।প্রায় পিঠাপিঠি জন্ম ওদের । সংসারে স্ত্রী আর দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে কবির সাহেবের টানাপোড়েনের সংসার ।অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী কবির সাহেব।পেনশন খুব বেশি পায় না ।ছেলে মেয়েরা কিছু সংসার খরচ মাঝে মাঝে দেয় তবে তা যথেস্ট নয় ।দু ছেলে মেয়ের পড়াশোনা,সংসার খরচ, স্ত্রী হার্টের রোগী প্রতিদিন ঔষধ লাগে প্রায় তিনশ হতে চারশ টাকার ।ছেলে মেয়েদের শিক্ষকের মাইনে প্রতিমাসে সব মিলে হিম শিম খেতে হয় । কবীর সাহেবের হাতের লাঠি তার ছোট মেয়ে নেহা।ছোটবেলা থেকে যেখানেই যান না কেন নেহাকে সাথে করে নিয়ে যান ।নেহার পুরোটা জুড়েই তার বাবা ।বাবার সুখ দুখের সব ভাগাভাগি ছোট বেলা থেকেই নেহা করে আসে ।পারিবারিক,পারিপার্শিক পরিস্থিতি নেহাকে বাস্তবতার সাথে খুব বেশি পরিচিত করেছে ।বাবার অসহায় জীবনের সব গল্প সব কথা নেহা যতটা জানতো কবির সাহেবের অন্য সন্তানরা ততটা জানতো না । নেহা ভীষন রকম চিকন এতে করে সে যখন রাস্তায় হাঁটতো তখন একবার রাস্তার একপাশে তো আর একবার রাস্তার অপরপাশে ভারসম্যহীনভাবে হাঁটতো,যেন স্বর্ন লতা একেবেঁকে গাছ বেয়ে উঠছে।কবির সাহেব দূর থেকে মেয়েকে চোখে চোখে দেখে রাখতেন।স্কুলে,শিক্ষকের বাসায় যেখানেই যেত নেহা কবির সাহেব রাস্তায় দাড়িয়ে মেয়েকে দেখতেন । -কবির সাহেব,মা নেহা কাছে এসো । -নেহা ,বল বাবা , -কবির সাহেব,চল রাস্তায় একটু হেঁটে আসি মা। -নেহা ,বাবা এত রাতে ! -কবির সাহেব ,হ্যাঁ চল মা ,আচ্ছা বাবা চল। রাত দশটা,মফস্বল এলাকা প্রায় অধিকাংশ মানুষ শুয়ে পড়েছে।কবির সাহেবের পরিবারের সবাই একটু দেরী করে ঘুমায় ।নেহা ও মাত্র হাই স্কুলে উঠেছে একটু রাত জেগে থাকে ।মাঝে মাঝে রাতে তাহাজ্জুত নামাজ পড়ে । নেহা এবং কবির সাহেব বাসা থেকে বের হয়ে ডানদিকে হাঁটতে শুরু করেন।পাশেই মেইন রোড তার দু পাশে মাঠের পর মাঠ ,আর রাস্তার পাশেই কবির সাহেবের বাড়ির সাথে বিশাল স্কুল, মসজিদ এবং মাদ্রাসা।মফস্বলের মেইন রোডের দু’ধারে সারি সারি বড় বড় মেহগনি গাছ দেখতে অপূর্ব লাগে ।এত রাতে পথে কোন জনমানব নেই।নেই কোন যানবাহন,বাস,ট্রাক,রিক্সা কোন কিছু নেই ।সম্পূর্ন নিরব কোলাহলহীন শুধু আছে ঝিরি ঝিরি বাতাস আর আকাশে অজস্র তাঁরা,তারার ভিড়ে ঝলমলে একখানি রুপালি চাঁদ।পাশের মাঠের মাঝে জোনাকির নৃত্য,বাঁশ ঝাড়ে জোনাকির থোকা থোকা বসে কানে কানে গল্প যেন মনে হয় মণি জ্বলজ্বল করছে ।কখনও কখনও জোনাকিরা উড়তে উড়তে শরীরে এসে বসে আর মিটি মিটি জ্বলতে থাকে,সে দৃশ্য নেহাকে স্বপ্নপুরীর রাজকন্যা বানিয়ে দেয় ।প্রতিদিন নেহা বাবার সাথে হাঁটতে যায়।হাল্কা বাতাসে চাঁদের আভায়,মনোরম সপ্নীল পরিবেশে কোটাল কন্যা রাজকন্যা হতে চাই। -কবির সাহেব,মা এদিকে এসো। -নেহা জী বাবা কি হয়েছে বল? -কবির সাহেব ,মা তুমি যখন রাস্তায় হাঁটো তখন হাঁটা দেখে মনে হয় তুমি ভারসাম্যহীন।দেখো আমার কাছে কেমন করে হাঁটবে। রাস্তার একপাশ দিয়ে হাঁটবে এবং এত তাড়াতাড়ি হাঁটবে না ।স্থির হয়ে একপা ফেলার পর অন্য পা ফেলবে দেখি হাঁটো তো আমার মত করে । মেইন রোডের নীরব পরিবেশে বাবা তার মেয়েকে হাঁটতে শেখাচ্ছেন।নেহা কয়েকবার বাবার দেখানো ওয়েতে হাঁটলো।জিজ্ঞেস করলো বাবা হচ্ছে আমার হাঁটা ।কবির সাহেব হ্যাঁ হবে তুমি ধীরে পা ফেলবে তাহলে ঠিকক হয়ে যাবে ।আচ্ছা বাবা নেহার সম্মতি ।এভাবেই মাঝে মাঝে রাতে নেহাকে নিয়ে কবির সাহেব রাতে হাঁটতে বের হন।বিশেষত গরমের সময় রাতের পরিবেশ ভীষণ মনোরম হয়। চলবে