Categories
Uncategorized

শ্রাবস্তির স্বপ্নভঙ্গ

আহমেদ কবির সাহেবের সাত ছেলে মেয়ের সর্ব কনিষ্ট মেয়ে নেহা কবির ।সব ছেলে মেয়েরাই বড় হয়ে গেছে ,বিয়ে করে সংসার জীবনে প্রবেশ করেছে । বিয়ে হতে বাকি রয়েছে নেহা কবির এবং এক ছেলে নেহাল কবির ।দু ভাই বোন এখনো পড়াশোনা করছে।নেহা পন্চম শ্রেনী এবং নেহাল সপ্তম শ্রেনীতে।প্রায় পিঠাপিঠি জন্ম ওদের । সংসারে স্ত্রী আর দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে কবির সাহেবের টানাপোড়েনের সংসার ।অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী কবির সাহেব।পেনশন খুব বেশি পায় না ।ছেলে মেয়েরা কিছু সংসার খরচ মাঝে মাঝে দেয় তবে তা যথেস্ট নয় ।দু ছেলে মেয়ের পড়াশোনা,সংসার খরচ, স্ত্রী হার্টের রোগী প্রতিদিন ঔষধ লাগে প্রায় তিনশ হতে চারশ টাকার ।ছেলে মেয়েদের শিক্ষকের মাইনে প্রতিমাসে সব মিলে হিম শিম খেতে হয় । কবীর সাহেবের হাতের লাঠি তার ছোট মেয়ে নেহা।ছোটবেলা থেকে যেখানেই যান না কেন নেহাকে সাথে করে নিয়ে যান ।নেহার পুরোটা জুড়েই তার বাবা ।বাবার সুখ দুখের সব ভাগাভাগি ছোট বেলা থেকেই নেহা করে আসে ।পারিবারিক,পারিপার্শিক পরিস্থিতি নেহাকে বাস্তবতার সাথে খুব বেশি পরিচিত করেছে ।বাবার অসহায় জীবনের সব গল্প সব কথা নেহা যতটা জানতো কবির সাহেবের অন্য সন্তানরা ততটা জানতো না । নেহা ভীষন রকম চিকন এতে করে সে যখন রাস্তায় হাঁটতো তখন একবার রাস্তার একপাশে তো আর একবার রাস্তার অপরপাশে ভারসম্যহীনভাবে হাঁটতো,যেন স্বর্ন লতা একেবেঁকে গাছ বেয়ে উঠছে।কবির সাহেব দূর থেকে মেয়েকে চোখে চোখে দেখে রাখতেন।স্কুলে,শিক্ষকের বাসায় যেখানেই যেত নেহা কবির সাহেব রাস্তায় দাড়িয়ে মেয়েকে দেখতেন । -কবির সাহেব,মা নেহা কাছে এসো । -নেহা ,বল বাবা , -কবির সাহেব,চল রাস্তায় একটু হেঁটে আসি মা। -নেহা ,বাবা এত রাতে ! -কবির সাহেব ,হ্যাঁ চল মা ,আচ্ছা বাবা চল। রাত দশটা,মফস্বল এলাকা প্রায় অধিকাংশ মানুষ শুয়ে পড়েছে।কবির সাহেবের পরিবারের সবাই একটু দেরী করে ঘুমায় ।নেহা ও মাত্র হাই স্কুলে উঠেছে একটু রাত জেগে থাকে ।মাঝে মাঝে রাতে তাহাজ্জুত নামাজ পড়ে । নেহা এবং কবির সাহেব বাসা থেকে বের হয়ে ডানদিকে হাঁটতে শুরু করেন।পাশেই মেইন রোড তার দু পাশে মাঠের পর মাঠ ,আর রাস্তার পাশেই কবির সাহেবের বাড়ির সাথে বিশাল স্কুল, মসজিদ এবং মাদ্রাসা।মফস্বলের মেইন রোডের দু’ধারে সারি সারি বড় বড় মেহগনি গাছ দেখতে অপূর্ব লাগে ।এত রাতে পথে কোন জনমানব নেই।নেই কোন যানবাহন,বাস,ট্রাক,রিক্সা কোন কিছু নেই ।সম্পূর্ন নিরব কোলাহলহীন শুধু আছে ঝিরি ঝিরি বাতাস আর আকাশে অজস্র তাঁরা,তারার ভিড়ে ঝলমলে একখানি রুপালি চাঁদ।পাশের মাঠের মাঝে জোনাকির নৃত্য,বাঁশ ঝাড়ে জোনাকির থোকা থোকা বসে কানে কানে গল্প যেন মনে হয় মণি জ্বলজ্বল করছে ।কখনও কখনও জোনাকিরা উড়তে উড়তে শরীরে এসে বসে আর মিটি মিটি জ্বলতে থাকে,সে দৃশ্য নেহাকে স্বপ্নপুরীর রাজকন্যা বানিয়ে দেয় ।প্রতিদিন নেহা বাবার সাথে হাঁটতে যায়।হাল্কা বাতাসে চাঁদের আভায়,মনোরম সপ্নীল পরিবেশে কোটাল কন্যা রাজকন্যা হতে চাই। -কবির সাহেব,মা এদিকে এসো। -নেহা জী বাবা কি হয়েছে বল? -কবির সাহেব ,মা তুমি যখন রাস্তায় হাঁটো তখন হাঁটা দেখে মনে হয় তুমি ভারসাম্যহীন।দেখো আমার কাছে কেমন করে হাঁটবে। রাস্তার একপাশ দিয়ে হাঁটবে এবং এত তাড়াতাড়ি হাঁটবে না ।স্থির হয়ে একপা ফেলার পর অন্য পা ফেলবে দেখি হাঁটো তো আমার মত করে । মেইন রোডের নীরব পরিবেশে বাবা তার মেয়েকে হাঁটতে শেখাচ্ছেন।নেহা কয়েকবার বাবার দেখানো ওয়েতে হাঁটলো।জিজ্ঞেস করলো বাবা হচ্ছে আমার হাঁটা ।কবির সাহেব হ্যাঁ হবে তুমি ধীরে পা ফেলবে তাহলে ঠিকক হয়ে যাবে ।আচ্ছা বাবা নেহার সম্মতি ।এভাবেই মাঝে মাঝে রাতে নেহাকে নিয়ে কবির সাহেব রাতে হাঁটতে বের হন।বিশেষত গরমের সময় রাতের পরিবেশ ভীষণ মনোরম হয়। চলবে

Authors

One reply on “শ্রাবস্তির স্বপ্নভঙ্গ”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *